Mathematics Laboratory in School Label

Rate this post

স্কুলের গণিত ল্যাবরেটরি শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ দেয়। জ্যামিতির মডেল, চার্ট, ডিজিটাল টুলস ও কার্যক্রমের মাধ্যমে জটিল ধারণা সহজ হয়। এটি যৌক্তিক চিন্তা, সমস্যা সমাধান ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে। গণিতের ভয় দূর করে আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করে এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সফলতার জন্য শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলে।

গণিত ল্যাবরেটরির প্রয়োজনীয় অবকাঠামো (Infrastructure Must Have)

  • যথেষ্ট আলো-হাওয়াযুক্ত ও শান্ত কক্ষ।
  • ব্ল্যাকবোর্ড / হোয়াইটবোর্ড ও প্রজেক্টর।
  • টেবিল–চেয়ার ও দলগত কাজের জায়গা।
  • জ্যামিতি বক্স, স্কেল, কম্পাস, প্রোট্র্যাক্টর ইত্যাদি।
  • গণিতের মডেল (ঘনক, গোলক, প্রিজম, শঙ্কু ইত্যাদি)।
  • গ্রাফ পেপার, চার্ট, ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল টুলস।
  • কম্পিউটার ও সফটওয়্যার (GeoGebra, Graphing Tools ইত্যাদি)।

গণিত ল্যাবরেটরির গুরুত্ব (Importance)

  • গণিত শেখা কেবল বই নয়, হাতে–কলমে অভিজ্ঞতা হয়।
  • শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের সঙ্গে গণিতকে যুক্ত করতে পারে।
  • জটিল সূত্র বা ধারণা মডেল ও কার্যক্রমে সহজ হয়ে যায়।
  • যৌক্তিক চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা বাড়ে।
  • গণিতের প্রতি ভয় কমে গিয়ে আনন্দময় হয়।
  • দলগত কাজের মাধ্যমে সহযোগিতা ও যোগাযোগ দক্ষতা তৈরি হয়।

শিক্ষার্থীর অর্জন (Student Outcome)

  • সূত্র মুখস্থ না করে বুঝে প্রয়োগ করার দক্ষতা তৈরি হয়।
  • সমস্যা সমাধানে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
  • বাস্তব জীবনে সংখ্যা, আকার ও তথ্য ব্যবহার করতে শেখে।
  • গবেষণামূলক ও অনুসন্ধানী মনোভাব গড়ে ওঠে।
  • সমালোচনামূলক ও বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়।
  • প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য আরও দৃঢ় ভিত্তি তৈরি হয়।

পশ্চিমবঙ্গের স্কুলে গণিত ল্যাবরেটরি আছে কি ?

সব স্কুলে নেই।
প্রধানত বড়ো বা শহরাঞ্চলের হাইস্কুল ও হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুলে কিছুটা ব্যবস্থা আছে।
CBSE/ICSE বোর্ডের স্কুলগুলোতে গণিত ল্যাব তুলনামূলকভাবে সাধারণ। কিন্তু রাজ্য বোর্ডের স্কুলগুলিতে গণিত ল্যাব এখনও সর্বত্র গড়ে ওঠেনি।

অধিকাংশ স্কুলে গণিত শিক্ষকরা ছোটখাটো কিছু জ্যামিতিক যন্ত্র, গ্রাফ পেপার, মডেল ব্যবহার করে থাকেন, কিন্তু তাকে পূর্ণাঙ্গ “ল্যাব” বলা যায় না।

গণিতের ল্যাবরেটরির জন্য সরকার কি টাকা বরাদ্দ করে ?

কেন্দ্রীয় সরকারের RMSA (Rashtriya Madhyamik Shiksha Abhiyan) ও পরবর্তীকালে Samagra Shiksha Abhiyan-এর আওতায় গণিত ও বিজ্ঞান ল্যাবরেটরি গঠনের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই অর্থ ব্যবহার করে কিছু স্কুলে বিজ্ঞান-গণিত ল্যাব তৈরির চেষ্টা করেছে, তবে এটি সর্বত্র কার্যকর হয়নি।

বাস্তবে দেখা যায়, বরাদ্দ থাকলেও অনেক সময় অবকাঠামো উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইত্যাদি জায়গায় ঘাটতি থাকে। ফলে অনেক স্কুলেই বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও কার্যকর গণিত ল্যাব তৈরি হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার কি শিক্ষাব্যবস্থাকে “তুলে দিতে” চাইছে ?

সরাসরি বলতে গেলে, সরকার শিক্ষাব্যবস্থা তুলে দিতে চাইছে না। তবে কিছু নীতি ও বাস্তব পরিস্থিতি দেখে অনেকে হতাশা প্রকাশ করেন:
শিক্ষকের শূন্যপদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ না হওয়া।
সরকারি স্কুলে অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা।
শিক্ষার মান ধরে রাখার জন্য পর্যাপ্ত মনোযোগ না দেওয়া।
বেসরকারি স্কুল ও কোচিং সেন্টারের দিকে ছাত্রছাত্রীদের ঝুঁকে পড়া।

এসব কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হচ্ছে যে সরকার হয়তো সরকারি স্কুলের মানোন্নয়নে যথেষ্ট আন্তরিক নয়।

বাস্তব চিত্র হলো:
কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে (যেমন সমগ্র শিক্ষা অভিযান, পরিকাঠামো উন্নয়ন, ল্যাব স্থাপন),
কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ সর্বত্র হয়নি।

ফলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন শিক্ষাব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে, এবং ছাত্ররা বেসরকারি শিক্ষার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top