The Peacock Model has been implemented for CCE in schools since the 2013 academic session.
“পিকক মডেল” হল একটি শিক্ষণ-পদ্ধতি(pedagogical approach) যা ভারতে সহ বিভিন্ন দেশে ধারাবাহিক ও সামগ্রিক মূল্যায়ন (CCE – Continuous and Comprehensive Evaluation) ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই মডেলটি শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশ ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করে। এটি UNESCO-র শিক্ষার চারটি স্তম্ভের (“Learning to Know”, “Learning to Do”, “Learning to Live Together”, এবং “Learning to Be”) উপর ভিত্তি করে গঠিত।
পিকক মডেলে শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গিক দক্ষতার মূল্যায়ন করে:
১. বৌদ্ধিক দক্ষতা (Cognitive skill ) – জ্ঞান, ধারণা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা
২. ভাষাগত দক্ষতা (Linguistic skill) – কথা বলা, পড়া, লেখা ও শ্রবণ
৩. সামাজিক দক্ষতা (Social skill) – সহানুভূতি, সহযোগিতা, দলগত কাজ
৪. সৃজনশীল দক্ষতা (Creative skill) – আঁকা, গান, নাটক, নিত্য, হস্তশিল্প ইত্যাদি
৫. শারীরিক ও নৈতিক বিকাশ (Physical & Moral Development ) – খেলাধুলা, আচরণ, শৃঙ্খলা
পিকক মডেলের মূল বৈশিষ্ট্য
- সামগ্রিক বিকাশ (Holistic development): এই মডেল শারীরিক(physical), বৌদ্ধিক (cognitive), মানসিক (psychomotor) ও আন্তঃব্যক্তিক (interpersonal) শিক্ষার ক্ষেত্রগুলিকে একত্রে সংযুক্ত করে।
- ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Continuous evaluation): শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রতিক্রিয়ার(feedback) মাধ্যমে তাদের শক্তি ও দুর্বল দিক নির্ণয় করা হয় এবং ব্যক্তিগত শিক্ষণ পরিকল্পনা গঠিত হয়।
- অন্তর্ভুক্তি মূলকতা(Inclusivity): UNESCO-র চারটি শিক্ষার স্তম্ভের আলোকে এটি বিভিন্ন শিখণ প্রয়োজন ও শিখণ শৈলীর সাথে মানানসইভাবে তৈরি করা হয়েছে।
শিখণ ও শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় প্রয়োগ
- সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহ(Encourages active participation): শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, প্রশ্ন করা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উৎসাহিত করা হয়।
- সহযোগিতার বিকাশ (Fosters cooperation): সহানুভূতি ও সহযোগিতার মনোভাব গঠনে সাহায্য করে।
- সৃজনশীলতার প্রসার (Promotes creativity): শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় নান্দনিকতা ও সৃজনশীল অভিব্যক্তিকে উৎসাহিত করে।
এখানে বলা প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন সার্বিক মূল্যায়নে পুরো শিক্ষাবর্ষ জুড়ে শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশের ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও নথিবদ্ধকরণ হয়। তাই নতুন পাঠক্রমে প্রস্তুতিকালীন ও পর্যায়ক্রমিক এই দু’ধরনের মূল্যায়নের ভাবনাই স্থান পেয়েছে।
নিরবচ্ছিন্ন সার্বিক মূল্যায়ন
প্রস্তুতিকালীন (Formative) মূল্যায়ন
শ্রেণিকক্ষের ভিতরে ও বাইরে শিখনের সময় প্রস্তুতিকালীন মূল্যায়ন (Formative Evaluation) ঘটবে। এই মূল্যায়নের জন্য পাঁচটি সূচকের (Indicators) কথা ভাবা হয়েছে। এই সূচকগুলি শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশের মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন যে এই সূচকগুলি জাতীয় পাঠক্রমের রূপরেখা 2005,শিক্ষার অধিকার আইন 2009 ও নির্মিতিবাদ নির্বাচন করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের ভিতরে ও বাইরে শিখনের সময় শিক্ষিকা ও শিক্ষকেরা এই সূচকের ব্যবহার . করবেন। সূচকগুলি এই উদ্দেশ্য নিয়েই তৈরি করা হয়েছে, যাতে পাঠক্রমিক এবং সহপাঠক্রমিক নামে আলাদা কোনও বিভাজন না থাকে।
সূচকগুলি হলো :
- অংশগ্রহণ (Participation)
- প্রশ্ন ও অনুসন্ধান (Questioning and Experimentation)
- ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের সামর্থ্য (Interpretation and Application )
- সমানুভূতি ও সহযোগিতা (Empathy and Co-operation )
- নান্দনিকতা ও সৃজনশীলতার প্রকাশ (Aesthetic and Creative Expression)
| মূল্যায়নের সূচক, নির্দেশিকা ও পরিমাপক Rubric of Indicators ( সূচকের নির্দেশিকা ) |
| Indicator 1: Participation (অংশ গ্রহণ ) A : সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে ও নেতৃত্বদানের গুণাবলি আছে। B : আদানপ্রদানের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। C : অংশগ্রহণ করছে কিন্তু আদানপ্রদানে আগ্রহ কম। D : অংশগ্রহনের স্বল্প উৎসাহী। |
| Indicator 2: Questioning and Experimentation (প্রশ্ন করা ও অনুসন্ধানে আগ্রহ ) A :শিখন সহায়ক প্রশ্ন করতে সক্ষম ও অনুসন্ধানে আগ্রহী। B : শিখন সহায়ক প্রশ্নে সক্ষম কিন্তু অনুসন্ধানে আগ্রহী নয়। C : শিখন সহায়ক প্রশ্ন করে না কিন্তু অনুসন্ধানে আগ্রহী। D : প্রশ্ন করে কিন্তু তা শিখন বা শিখন সম্পর্কিত অনুসন্ধানে সহায়ক নয়। |
| Indicator 3: Interpretation and Application (ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের সামর্থ্য ) A : সংশ্লিষ্ট ধারণার উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ সমর্থ। B : সংশ্লিষ্ট ধারণার উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করতে সমর্থ কিন্তু প্রয়োগে অক্ষম। C : সংশ্লিষ্ট ধারণার আংশিক ব্যাখ্যা করতে সমর্থ কিন্তু প্রয়োগে অক্ষম। D : সংশ্লিষ্ট ধারণা কেবল মুখস্থ করছে। |
| Indicator 4: Empathy and Cooperation (সমানুভুতি ও সহযোগিতা ) A :পরিচিত ও অপরিচিত উভয়ের জন্যই সক্রিয়ভাবে সমানুভুতিশীল। B : পরিচিতের জন্য সক্রিয়ভাবে সমানুভুতিশীল কিন্তু অপরিচিতের জন্য শুধুই সমানুভুতিশীল। C : পরিচিতের জন্য সমানুভুতিশীল। D : সমানুভুতির প্রকাশ কম। |
| Indicator (সূচক) 5: (নান্দনিকতা ও সৃষ্টিশীলতার প্রকাশ )Aesthetic and Creative Expression A : নান্দনিক ও সৃষ্টিশীল (শ্রেণী কক্ষের ভিতরে ও বাহিরে ) B : নান্দনিক ও সৃষ্টিশীল (শ্রেণী কক্ষের ভিতরে ) C : নান্দনিক/সৃষ্টিশীল কর্মকান্ডে আগ্রহী। D : নান্দনিক/সৃষ্টিশীল কর্মকান্ডে আগ্রহী কম। |
পর্যায়ক্রমিক (Summative) মূল্যায়ন :
নতুন পাঠক্রমে তিনবার পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যালয়ে সামেটিভ এক্সাম হয় তিনটি।
- তৃতীয়টি হয় নভেম্বর এর শেষে বা ডিসেম্বরের শুরুতে।
- প্রথমটি হয় এপ্রিল এর শেষে বা মে মাসের শুরুতে।
- দ্বিতীয়টি হয় জুলাই এর শেষে বা আগস্ট এর শুরুতে।
সূচকগুলি হলো :
- প্রশ্নপত্রের মধ্যে Open-ended question framing -এর দর্শন যেন কাজ করে।(অন্তত মোট প্রশ্নের 1/3 অংশে এই ধরনের মুক্ত-চিন্তার চর্চার পরিসর থাকা আবশ্যক)।
- এছাড়াও পূর্ণমানের সঙ্গে সমানুপাতিক বিন্যাসে শিক্ষার্থীর বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও সৃজনশীলতার, স্বল্প- অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ -দীর্ঘ পরিসরে লিখিত প্রকাশের যাতে সুযোগ ঘটে ; শিক্ষিকা / শিক্ষককে সে বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে।
- শিক্ষার্থীর মধ্যে অর্জিত জ্ঞানের ধারণ ক্ষমতার (retention level) যেন বৃদ্ধি হয় সে দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে, তবে তা যেন কখনই মুখস্থ বিদ্যাকে প্রশ্রয় না দেয়।
- বিভিন্ন প্রস্তুতিকালীন এবং পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত দুর্বলতা গঠনমূলক প্রক্রিয়ায় প্রতিকার করতে হবে।
- প্রথম পর্যায়ে অর্জিত সামর্থ্য গুলির প্রয়োগের পরিসর থাকবে দ্বিতীয় পর্যায়ে, একইভাবে প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে অর্জিত সামর্থ্য গুলির প্রয়োগের পরিসর যেন তৃতীয় পর্যায়েও থাকে।
প্রস্তুতিকালীন (Formative) ও পর্যায়ক্রমিক (Summative) এই দু’ধরনের মূল্যায়নের মধ্যেদৃষ্টিভঙ্গিগত তফাত থাকলেও তা একে অপরের পরিপূরক। প্রস্তুতিকালীন মূল্যায়ন প্রধানত diagonostic । পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তা হলো judgemental। তাই এই দু’ধরনের মূল্যায়নে প্রাপ্ত গ্রেড বা নম্বরকেযোগের মাধ্যমে একত্রিত করা অবৈজ্ঞানিক। সেইজন্য রিপোর্ট কার্ডে প্রস্তুতিকালীন (Formative) ক্ষেত্রে শুধুমাত্রমান (নম্বর) এবং পর্যায়ক্রমিকের (Summative) ক্ষেত্রে মান ( Number) ও পরিমাপক (Grade), এই উভয়েরই ব্যবহার ঘটবে।

